মাত্র ৩২ বছরের আয়ু নিয়ে এসে আর্যাবর্তের এই পূণ্যধরাতলে যিনি তাঁর সুমহান কীর্তি রেখে গেছেন,
আজ সনাতন ধর্মের প্রতিটা হৃৎস্পন্দনের পেছনে যে ব্যক্তির অবদান তিনি আর কেউ নন স্বয়ং শিবাবতার জগৎগুরু ভগবান আদি শঙ্করাচার্য।
★ আজ থেকে ২৫২৭ বছর পূর্বের ঘটনা -------
যখন কলির তমসাচ্ছন্ন করাল গ্রাসে সমগ্র জগৎ দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল তখন জ্ঞানের দ্বীপ্তিমান সূর্যের ন্যায় স্বয়ং সদাশিব প্রকটিত হন জগৎগুরু ভগবান আদি শঙ্করাচার্য রূপে। গুলি, বোমা, বারুদ কোন কিছুর আলম্বন ব্যতীত'ই শাস্ত্রার্থের সমর ভূমিতে কেবলমাত্র অকাট্য যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে বেদবিরোধী সকল মত, পথ ও সম্প্রদায়কে ধূলিসাৎ করে সনাতন বৈদিক আর্য ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
♦♦মাত্র আট বছর বয়সে রাষ্ট্রধর্ম রক্ষার হেতু সন্যাস নেবার উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেন। একবার কল্পনা করুন তো যে বয়সে আমি আর আপনি মা'য়ের আঁচল ব্যতীত এক মূহুর্তও থাকতে পারতাম না ঠিক সে বয়সেই ভারতের কেরল রাজ্যের কালাড়ি নামক ছোট্ট একটি গ্রামের একজন বালক সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানের জন্য নিজ গৃহ ছেড়েছিলেন এবং শঙ্করদিগ্বিজয়মের যে স্বর্ণীম ইতিহাস রচনা করেছিলেন তার প্রভাবেই সনাতন ধর্মের অস্তিত্ব আজও টিকে রয়েছে।
★★শঙ্কর দিগ্বিজয়মে শঙ্করাচার্য সম্পর্কে বলা হয়েছে,,,,
"চতুৰ্ব্বেদান্ অষ্টবর্ষে দ্বাদশে সৰ্ব্বশাস্ত্রবিৎ॥
ষোড়শে সর্বদিগ্বিজয়েতা দ্বাত্রিংশে মুনিরভ্যগাৎ॥"
অর্থাৎ, নিজের ৮ বছর বয়সের মধ্যমেই সমগ্র বেদ, পুরাণ, ইতিহাস আদি শাস্ত্র অধ্যয়ন সম্পন্ন করে ফেলেন। ১২ বছরের মধ্যে সমগ্র বৈদিক বাঙ্ময়ের উপর শাস্ত্রার্থে সিদ্ধহস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।
১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে প্রস্থানত্রয়ী অর্থাৎ ব্রহ্মসূত্র, গীতা ও উপনিষদের উপর ভাষ্য প্রদান করেন। তারপর দিগ্বিজয় অভিযানে বের হয়ে ব্যবহারিক, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, আধ্যাত্মিক ও সিদ্ধান্তিক ধরাতলে সনাতন বৈদিক আর্য ধর্মকে শ্রেষ্ঠ আসনে অধিষ্ঠিত করেন। কালক্রমে লুপ্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানকে পুনরায় উদ্ভাসিত করেন এবং বিকৃত জ্ঞান-বিজ্ঞানের শোধন করেন।
চারবার নিজের পায়ে হেঁটে সমগ্র ভারত পরিভ্রমণ করেছিলেন এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার্থে ভারতবর্ষের চারপ্রান্তে চারটি মঠাম্নয়-ব্যাসপীঠ স্থাপন করে তাঁর চারজন আচার্য শিষ্যকে ঐ চারটি মঠের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং পরিশেষে ৩২ বছর বয়সে লীলা সংবরণ করে নিজধাম কৈলাশ গমন করেন।
✍️ লেখকঃ- অদ্রিব দেবনাথ ✍️
নমামি শঙ্কর 🚩
নমামি দূর্গে 🚩

No comments:
Post a Comment